বরিশালে চলছে আ’লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশীদের যুদ্ধ! তৃণমূলে এগিয়ে আরিফিন!!!

0


বিশেষ প্রতিবেদক[][]

বরিশাল সদর আসন (১২৩)০৫ এ আসনটিতে শুরু থেকেই বি,এন,পি জামায়াত এর শক্ত ঘাটি। সেই ঘাটিতে দূর্গ দখল নিতে সক্ষম হয়েছিলেন শওকত হোসেন হিরন । পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি বরিশাল সদর আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সাংসদ নির্বাচিত হন।তারপর সফলতার সাথে কাজ করে হয়ে ওঠেন।

সাংসদ হিরনের মধ্যে রাজনৈতিক সহবস্থান এর মনোভাব থাকার ফলে তেমন কোন বেগ পেতে হয়নি বি,এন,পি ও জামায়াতকে। হঠাৎ এই সাংসদের অকাল মৃত্যুতে ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল যায়গাটি শূন্য হলে তার সহধর্মিণী জেবুন্নেসা আফরোজ হিরন হযে যান সাংসদ (উপনির্বাচন ২০১৪ সালের ১৫ জুন )। বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন তিনি।

পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬২৯ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দী পেয়েছিলেন ৬ হাজার ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনএফের সাইফুল ইসলাম লিটন (টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে) পেয়েছেন ৬ হাজার ১৩৬ ভোট। তিনি ২০১৪ সালের ২২ জুন শপথ গ্রহণ করেন।

সেই থেকে অবহেলিত ও অকেজো আসন হিসেবে যেন তালিকাভুক্ত হয়ে গেল সদর আসন ০৫।

গত ৪ বছরের সাংসদ জেবুন্নেসা আফরোজ হিরনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুক ও নির্দিষ্ট দু’একটি মিটিং ছাড়া তেমন কোন রাজনৈতিক বা সামাজিক,উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডতে দেখা যায়নি তাকে। সংসদ সদস্য হয়েও তিনি রয়ে গেছেন সাধারণ মানুষের অধরা। ৩০ টি ওয়ার্ডের মূল হাতিয়ার ছাত্রলীগকে তিনি সঠিক নির্দেষনা দিতে চরম ব্যার্থ হওয়ায় বিপরীত ক্ষমতাবান গোষ্ঠী ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করে নেয়। যার বর্তমান চিত্র রইজ আহমেদ মান্না, সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, আতিকুল্লাহ্ মুনিমের মত তরুণ ছাত্রলীগের নেতাদের জনপ্রিয়তা দেখলেই বোঝা যায়। ৩০ টি ওয়ার্ডসহ ১০ টি ইউনিয়নেও একই চিত্র। সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির বিয়ে করে ঘরে ওঠার পর সেরনিয়াবাত সমর্থক আশিকুর রহমান সুজনের কপাল খোলে। তিনিও সে সুযোগের উপযুক্ত ব্যাবহার করে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের।

বিপদের প্রথম বন্ধু ছাত্রলীগকে এমন হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছেন জেবুন্নেসা আফরোজ। যদিও এখন পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে কেউ জানান দেননি জেবুন্নেসা আফরোজ বরিশালের ০৫ আসনের এবারের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তার কারন ধরা হয় এবারের সংরক্ষিত সাংসদ মহিলা আসন হয়ত! তবে ইতিমধ্যে মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন বলে গুঞ্জন সবখানে ছড়িয়ে পড়ছে।

মাহবুব উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)

জন্মসূত্রে মাহাবুব উদ্দিন বীর বিক্রম বরিশালের ছেলে। ভাষা আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি রাজনীতির মোহে পড়েন। পরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে ছাত্রলীগের সাথে ছাত্র রাজনীতির সুচনা ঘটে তার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা হলের (বর্তমান শহিদুল্লাহ হল) সহ-সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাস করেন তিনি। পরে তৎকালীন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশের ক্যাডারে যোগদান করেন।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মাহাবুব উদ্দিন সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য তিনি ‘বীর বিক্রম’ পদক লাভ করেন। আ’লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। অবশেষে এই দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনীতির জীবনের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন মাহাবুব উদ্দিন বীর বিক্রম।

বরিশালের জেলা ও মহানগর আ’লীগ এর কাছে নামসহ ব্যাক্তিটি খুব সুপরিচিত হলেও তিনি সাধারন মানুষের কাছে রয়ে গেছেন অধরা। গণমানুষের দ্বারে পৌছতে পারেননি তিনি। পরোক্ষভাবে সদর আসন ০৫ এর মনোনীত হতে চান বলে জানান দিলেও ততটা সুস্পষ্টভাবে এখনও বোঝা যাচ্ছেনা মাহবুব আলমের গতিবিধি

অতি স্বল্প সময়ের সবচেয়ে আলোচিত আরিফিন মোল্লা, মনোনয়ন প্রত্যাশী [][]

একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ৬ জানুয়ারি ২০০৯ শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ নেন। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণই ছিল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রধান বিষয়। ১২ ডিসেম্বর, ২০০৮ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করে যে ‘২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ পরিণত হবে।একটি উন্নত দেশ, সমৃদ্ধ ডিজিটাল সমাজ, একটি ডিজিটাল যুগের জনগোষ্ঠী, রূপান্তরিত উৎপাদনব্যবস্থা, নতুন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি—সব মিলিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্নই দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেই ডিজিটাল বাংলাদেশে, তারুণ্যের বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে একেরপর এক তরুণ সংসদ সদস্য,তরুণ মন্ত্রীর। গড়েছেন নতুন রেকর্ড, হয়েছেন সফল। প্রধানমন্ত্রী পুত্র ওয়াজেদ জয়সহ বেশ কয়েকজন তরুণ এখন সারা বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এরই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক হাতকে তৃণমূল থেকে আরও শক্তরাজনৈতিক হাতকে তৃণমূল থেকে আরও শক্তিশালী করতে বরিশালের মত বি,এন,পির ঘাটিতে আ’লীগের প্রতিনিধিত্ব করতে চান তরুণ সফল ব্যাবসায়ী, সমাজসেবক আরিফিন মোল্লা। বরিশাল সদর আসন(১২৩)০৫ এর আ’লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী এ তরুণ বরিশালের জেলা,মহানগরের কোন দলীয় পদে না থাকলেও গত কয়েকমাসে তার কার্যক্রম নজর কেড়েছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। আরিফিন সর্বশেষ দলীয় কর্মকাণ্ড হিসেবে পুরো আগষ্ট মাস জুড়ে চালিয়েছেন ব্যাক্তিগত উদ্দ্যগে দোয়া, তবারক বিতরন। তবারক বিতরনে বরিশালের জাগুয়া ইউনিয়নে ষড়যন্ত্রের শিকার হন আরিফিন মোল্লা। সেখানে গরিব দুঃখিদের জন্য বরাদ্দকৃত গরুর মাংস (২৫ কেজি) চুরি করে বিক্রি করে দেয় স্থানীয় কয়েকজন নেতারা।চুরির প্রতিবাদ করায় হামলার স্বীকার হয়েছেন জাগুয়া চেয়ারম্যান মোস্তাক আলম চৌধুরী। এ বিষয়ে মামলা চলমান। ওদিকে, ১৫ ই আগষ্ট বরিশালের সর্বকালের বৃহৎ ও ব্যায়বহুল দোয়া,তবারক বিতরন অনুষ্ঠান সফলভাবে শেষ করে হয়েছেন দলীয় সাধারন কর্মী ও দলপ্রেমীদের নয়নমণি।এ মহাসড়কে ২৫ টি তোরণ ও প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তবারক বিতরন করেন তিনি।
আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকায় তরুণ এ সমাজসেবক নিজ্ব উদ্দ্যগে লাগাতার চালাচ্ছেন সাধারন মানুষের মাঝে আর্থিক সাহায্য ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ। এর মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সাহায্য, সদর অঞ্চলের সাধারন মানুষকে সাহায্য, বিভিন্ন এতিমখানায় মাসব্যাপী সাহায্য, রাস্তাঘাট সংস্কারসহ বেশ কিছু কাজ। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি রাস্তার অস্থায়ী সংস্কার সহ অনেক কাজই করছেন, যা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের করার কথা। আবার সেই সাথে প্রতিটি কাজে দক্ষিণবঙ্গের রাজনৈতিক অভিভাবক ও জননেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নাম উচ্চারন করে তাকেই দোয়া করার অনুরোধ করে চলেছেন সব কাজে।
এদিকে গত ২ তারিখ জরুরী কাজে ঢাকা যাওয়ার পথে এক প্রকার অপ্রস্তুতভাবে প্রায় সহস্র নেতা কর্মী,সমর্থক, সাধারন মানুষ লঞ্চঘাটে উপস্থিত হন আরিফিনকে এক নজর দেখতে। এ সময় বিব্রত না হয়ে নেতৃত্বগুণের পরিচয় দিয়েছেন আরিফিন । তিনি উপস্থিত সকলকে সুশৃঙ্খলভাবে বিদায় দেন ও খুব সংক্ষিপ্ত এক ভাষণে দলীয় শ্লোগানসহ “হাসানাত আব্দুল্লাহর ” ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এ ধরনের গতিবিধি ও পরোক্ষভাবে প্রচার প্রচারনা দেখেই সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় তিনি হতে চাচ্ছেন বরিশাল সদর আসনের প্রার্থী।
সাইদুর রহমান রিন্টু[][] এক সময়ের ইলেক্ট্রিক পণ্য বিক্রেতা সাইদুর রহমান রিন্টু। সেই রিন্টু সময়ের সাথে সাথে বনে যান “রিন্টু মিয়া”। ” অজানা পথে” হয়ে ওঠেন শীর্ষ ব্যাবসায়ী। রাজনৈতিক নূন্যতম কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও শওকত হোসেন হিরনের বদৌলতে হয়েছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান। তাতে সাধারণ মানুষের তেমন কোন কাজ না হলেও হয়েছেন নিজে আরো ধনী।
রাজনৈতিক সমর্থক কখনও প্রয়াত মেয়রের কখনোও সেরনিয়াবাত গোষ্ঠীর। জনগন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন তথাকথিত এ নেতা বিভিন্ন মাধ্যমে জানান দিয়েছেন তিনিও মনোনয়ন প্রত্যাশী।

Share.

About Author

Leave A Reply