হেলমেট না খুললে বিপদেই পড়ে যেতেন মাশরাফি!

0

যথাসময়ে হেলমেটটি খুলেছিলেন বলে রক্ষা! আরেকটু হলে যে নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে হুলুস্থুলই পড়ে যাচ্ছিল। যাওয়ারই কথা। গণভবনের গেটে কোনো এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ব্রেক কষতে দেখে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিতদের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া তা-ই হওয়া উচিত। কিন্তু হেলমেট খুলে নিজের চেহারা দেখাতেই কঠোর নিরাপত্তার রুদ্র চোখও অনেকখানিই শিথিল হয়ে যায়। সেই সঙ্গে বিস্ময়ে বিস্ফোরিতও।
গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া মোটরসাইকেল আরোহীর নাম যে মাশরাফি বিন মর্তুজা। ঢাকার যানজটের ধকল এড়াতে যিনি নিয়মিতই দুই চাকার বাহনে চেপে বসেন। যদিও একজন সংসদ সদস্যকে ওভাবে যেতে দেখাটা সেখানে উপস্থিতদের জন্য অভাবিত বিস্ময়ের ব্যাপারই ছিল।অবশ্য গতকাল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নিজের গাড়িতে চড়েই গেছেন। সেখান থেকে এসে যে মিরপুরের একাডেমি মাঠে তাঁর বিপিএল দল রংপুর রাইডার্সের অনুশীলনেও হাজিরা দেবেন, সেটি প্রত্যাশিত ছিল না কিছুতেই। জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীরা যেখানে নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছিলেন বেশ আগেই, সেখানে মাশরাফি নড়াইল গিয়েছেন অনেক পরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষ করার পরও চোটের চিকিৎসায় আরো কিছুদিন রয়ে গিয়েছিলেন ঢাকায়। অনেক পরে নিজ এলাকায় গিয়ে মানুষের ভালোবাসায় আপ্লুত বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক ব্যালট বাক্সেও এর সমানুপাতটা বুঝেছেন ভালোমতোই। নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর কাল শপথ নিয়ে এসে নিজেও যেন অনেকটা ঘোরের মধ্যে, ‘হুট করেই সব কিছু কী রকম বদলে গেল! নির্বাচন করলাম, মানুষের কাছে গেলাম। আজ আমি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথও নিয়ে ফেললাম!’
এমন সময়ে শপথ নিয়েছেন, যখন বিপিএলও শুরু হয়ে যাচ্ছে। তাঁর দল রংপুর রাইডার্সও নেমে পড়ছে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে। যে অভিযানে অধিনায়কও তাঁর মন-প্রাণ সঁপে দেবেন বলে নিশ্চিত রংপুরের কোচ টম মুডি। শুধু তো আর বিপিএল নয়, সামনে জাতীয় দলের নিউজিল্যান্ড সফরও আছে। আছে বিশ্বকাপও। জাতীয় দল ভাবনায়ও যে অধিনায়ক ডুবে থাকবেন আকণ্ঠ, তাঁকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতায় তা নিয়েও কোনো সংশয় নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানের। কাজেই ওয়ানডে অধিনায়ক তাঁর খেলার ভুবনেও মনোযোগী থাকবেন যথেষ্টই।
চোটজর্জর ক্যারিয়ারে তাঁকে বারবারই থামতে হয়েছে। সুস্থ হয়ে আবার ছুটেছেনও। বারবার চোটাক্রান্ত দুই হাঁটু তাঁর বোলিংয়ের গতিও কমিয়েছে অনেক। তবু নতুন পরিচয়ে মাশরাফি যে পুরো গতিতেই ছুটতে চাইছেন, সেটি কাল মিরপুর একাডেমি মাঠের ছোট্ট ড্রেসিংরুমে তাঁর তৎপরতা দেখেই স্পষ্ট। এলাকার এক রাজনৈতিক কর্মীকে তাঁর পাশে দেখা গেল সর্বক্ষণ। আলাপে অনগ্রসর নড়াইল-২ আসনের নানা সমস্যাই উঠে আসতে দেখা গেল। হতশ্রী রাস্তা থেকে শুরু করে অযত্নে পড়ে থাকা সদর হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার, বাদ গেল না কিছুই। এক ফাঁকে এটিও বলতে শোনা গেল যে, ‘সামনে খেলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হবে। দেশের বাইরেও থাকতে হবে। তাই শুরুতেই কিছু কাজ এগিয়ে রাখতে হবে। তাই ঠিক করেছি, বিপিএলের এক ফাঁকে নড়াইলও যাব।’
যাবেন যাতে তাঁর আসনে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুতই গতিশীল হয়। তারই প্রাথমিক ছক কাটলেন কাল মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেট’-এ বসেই।

Share.

About Author

Leave A Reply