উই রিভোল্ট মেজর জিয়া- রিয়াদ নূর

0

উই রিভোল্ট – মেজর জিয়া!

শেখ মুহাম্মদ রিয়াদ নূর[][] বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী পরিবারের একজন নির্বাসিত সদস্য ভারত থেকে দেশে ফিরে আসার মাত্র ১২ দিন পর ১৯৮১ সালের আজকের এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। তিনি শুধু জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতিই ছিলেন না, ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অন্যতম ব্রিগ্রেড ইউনিট ‘জেড’ ফোর্সের প্রধান। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তিনি দুইবার ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দিয়েছিলেন।

১৯৭২ সালের প্রথম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দৈনিক বাংলা’র প্রথম পাতায় ‘সেদিন চট্টগ্রামে যেমন করে স্বাধীনতার লড়াই শুরু হয়েছিল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘…স্বাধীনতার ঘোষণাই ধ্বনিত হয়েছিল মেজর জিয়ার কন্ঠে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে। এ ঘোষণা তিনি করলেন ২৭ মার্চ। এ ঘোষণায় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সাহায্যের আবেদন জানান বিশ্ববাসীর কাছে। আহ্বান জানান দেশবাসীর কাছে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার। ৩০শে মার্চ জিয়া এই বেতার কেন্দ্র থেকেই ঘোষণা করেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই একটি ঘোষণায় মনোবল ফিরে এসেছিল বাঙালীদের।’

১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধানমন্ত্রী’ মরহুম তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘লড়াইরত আমাদের বাহিনীর চমৎকার সাফল্য এবং প্রতিদিন তাদের শক্তির সঙ্গে জনবলের বৃদ্ধি এবং দখলীকৃত অস্ত্র গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে, যা মেজর জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে প্রথম ঘোষিত হয়, সক্ষম করেছে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল বেস প্রতিষ্ঠা করতে, যেখান থেকে মুক্তাঞ্চলের প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে।’ (সূত্রঃ বাংলাদেশ ডকুমেন্টস, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা – ২৮১,২৮২)।

তাই বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জিয়াউর রহমানের নাম কোনদিন মুছে ফেলা সম্ভব নয়। যদিও একটি কুচক্রী মহল সেই অপচেষ্টা বহু দিন থেকেই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, তা সফল হবার নয়। তবে মরহুম জিয়াউর রহমান একজন মানুষ ছিলেন, তাই তাঁর সকল কর্মকান্ড সঠিক থাকা কক্ষনই সম্ভব নয়। কেননা কোন মানুষই ভুল ক্রুটির উর্দ্ধে নয়। তবুও মাত্র সাড়ে ৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি যা করে দেখিয়ে ছিলেন তা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। হ্যা সমালোচনাও থাকবে, অপপ্রচার তো চলছেই তবুও তিনি চির অম্লান হয়ে থাকবেন। তবে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড আজও রহস্যময়। তবুও ইতিহাস একদিন ঠিকই সেই রহস্য উম্মোচন করবে বলে বিশ্বাস করি।

আজকের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জিয়াউর রহমানের আত্নার শান্তি কামনা করছি। একই সাথে তাঁর সুযোগ্য সহধর্মীনি, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, একাত্তরের নির্যাতিত জননী বেগম খালেদা জিয়ার অবিলম্বে মুক্তি দাবী করছি। জয়বাংলা! বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!

Share.

About Author

Leave A Reply