সাংবাদিক মনির হোসেন এর টাইমলাইন থেকে….

0

সাংবাদিক মনির হোসেন এর টাইমলাইন থেকে….

ঝালকাঠি নতুন পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপার হলেন নালিতা বাড়ির,
ফাতিহা ইয়াসমিন ডলি।
সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন নালিতাবাড়ির উপজেলার বরুয়াজানি গ্রামের বাসিন্দা মৃত:মো: আবুল মুনসুর তালুকদারের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা ফাতিহা ইয়াসমিন ডলি।
গত ১৪ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। ঐ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পাওয়া ৯৮ জনের তালিকায় রয়েছেন ফাতিহা ইয়াসমিন ডলি।
ফাতিহা ইয়াসমিন ডলি ৩ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ এবং কাকরকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ও চলচ্চিত্র অভিনেতা শহিদ উল্লাহ তালুকদারের ছোট বোন।
ফাতিহা ইয়াসমিন ডলি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।তিনি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র্যবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে ২২তম বিসিএস-এ পুলিশে যোগ দেন।
স্বামী রফিকুল ইসলাম একজন প্রকৌশলী। পারিবারিক জীবনে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ – Bangladesh Police
বাংলাদেশের প্রধান অসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশ পুলিশের প্রধানকে অধিকর্তাকে বলা হয় মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) বা “ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ।
চুরি-ডাকাতি রোধ, ছিনতাই প্রতিরোধ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ইত্যাদি সমাজ বিরোধী কর্মকান্ড প্রতিরোধসহ বিভিন্ন জনসভা, নির্বাচনী দায়িত্বে বাংলাদেশ পুলিশ অংশগ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশ পুলিশে পুরুষ-নারী উভয়ই চাকুরী করছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা।
বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সময় হল ১৯৭১ সাল। মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন ডিপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল, বেশ কয়েকজন এসপি সহ প্রায় সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্য বাঙ্গালীর মুক্তির সংগ্রামে জীবনদান করেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাস হতেই প্রদেশের পুলিশ বাহিনীর উপর কর্তৃত্ব হারিয়েছিল পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকার। পুলিশের বীর সদস্যরা প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ তারিখে ঢাকার রাজারবাগের পুলিশ লাইন্সে ২য় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত বাতিল .৩০৩ রাইফেল দিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা। এই সশস্ত্র প্রতিরোধটিই বাঙ্গালীদের কাছে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরুর বার্তা পৌছে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশের এই সদস্যরা ৯ মাস জুড়ে দেশব্যাপী গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন এবং পাকিস্তানী সেনাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১২৬২ জন শহীদ পুলিশ সদস্যের তালিকা স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল পত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত ঝিনাইদহের তত্কালীন সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার মাহবুবউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিব নগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্টান শেষে ঐতিহাসিক গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
বাংলাদেশ সময়কাল।
মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ পুলিশ নামে সংগঠিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুলিশ বাহিনীর মতো আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগনের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে প্রধান ভুমিকা পালন করে থাকে। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাডিশনাল চরিত্রে বিরাট পরিবর্তন এনে দিয়েছে। শুধু আইন পালন আর অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনই নয় দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। গত এক দশকে জঙ্গীবাদ দমন এবং নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। পুলিশের সদস্যরা তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা আর পেশাদরিত্ব দিয়ে অপরাধ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন। ঘুষ দুনীর্তির কারনে একসময়ে অভিযুক্ত এই বাহিনী তার পেশাদরিত্ব আর জনগনের প্রতি দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে জনগনের গর্বের বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

Share.

About Author

Leave A Reply