জমি বিরোধ কেন্দ্র করে হামলা,ভাঙ্গচুর। থানায় মামলা নিতে গড়িমসি

0

জমি বিরোধ কেন্দ্র করে হামলা,ভাঙ্গচুর। থানায় মামলা নিতে গড়িমসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: বরিশালে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে বসতঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিরোধে প্রতিপক্ষ এগিয়ে গেলে সশস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি জমি মালিকের দুই মেয়েকে শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে। গত ৪ আগস্টে সকালের এই ঘটনায় হামলাকারী বিএনপি নেতা এম এ জলিলসহ দুই জনকে পুলিশ আটক করলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়। অভিযোগ রয়েছে- হামলার শিকার জমি মালিক শাহ আলম এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানায় একটি অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। বরং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব উল ইসলাম বিষয়টিকে মীমাংসার কথা বলে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নিতে কালক্ষেপন করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়- শহরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের লুৎফর রহমান সড়ক এলাকার ১০ শতাংশের একখন্ড ভ‚-সম্পত্তি নিয়ে শাহ আলম এবং আব্দুল মান্নান মৃধার সাথে কয়েক বছর যাবত বিরোধ চলে আসছে। ওই জমিটি লুৎফর রহমানের কাছ থেকে ২০১৬ সালে ক্রয় পরবর্তী ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করে আসছেন শাহ আলম। পরবর্তীতে এই জমি থেকে বছরখানেক আগে তিনি ৩ শতাংশ প্রবাসী গোলাম মাওলার কাছে বিক্রি করেন। পরে তিনিও সেই জমিতে ঘর তুলে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু এই পুরো ১০ শতাংশ জমি ২০১২ সালে সোলায়মান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছে বলে দাবি করে আসছিলেন অব্দুল মান্নান মৃধা। এ নিয়ে প্রায়শই দ্বন্দ¦ বিবাদে তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সর্বশেষ ৪ আগস্ট যা রুপ নেয় রক্তপাতের মধ্য দিয়ে বড় ধরনের সংঘাত সহিংসতায়। সহিংসতার মাত্রা এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে আশপাশের বাসিন্ধারাও ছিল উৎকন্ঠিত। হামলাকারী মান্নান মৃধা জমিটি নিয়ন্ত্রণে নিতে বাহিনীসহ অস্ত্র সজ্জিত হয়ে তেড়ে আসার খবর খোদ থানা পুলিশকেও আবাক করে দিয়েছে ।

হামলার শিকার শাহ আলম ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন- প্রতিদিনের ন্যায় ওই দিনও তিনি বাসায় অবস্থান করছিলেন। আকস্মিক আব্দুল হান্নান মৃধা ও এম এ জলিলসহ ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী ধারাল অস্ত্র ও হামার হাতুড়ি নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে তারা ভবনের দেওয়াল ভাঙা শুরু করলে প্রতিরোধে এগিয়ে যান গোলাম মাওলাসহ পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু হামলাকারীরা কোন ধরনের সময় বা সুযোগ না দিয়েই তাদেরকে মারধর শুরু করে দেয়। একপর্যায়ে তাদের বাসার সামনে ফেলে এলোপাতারি কুপিয়ে জখম করে বাসায় লুটাপাট করেছে। এ সময় ভয়ঙ্কর এই সন্ত্রাসের চিত্র দেখে তাদের উদ্ধারে জমি মালিক শাহ আলমের কলেজ পড়ুয়া দুই মেয়ে এগিয়ে গেলে তাদের শ্লীতাহানী ঘটায় হামলাকারীরা।

এই খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি মাহাবুব উল ইসলামসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে। সেই সাথে হামলাকারী এমএ জলিলসহ দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এসময় শাহ আলমের পরিবারের পক্ষে থানায় একটি অভিযোগ গ্রহণের বিষয়টি সংবাদকর্মীদের অবহিত করেন ওসি। কিন্তু পরবর্তীতে হামলাকারীদের থানায় নেওয়ার পরে পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করেনি। বরং আটক দুইজনকে ছেড়ে দিয়ে দুদিনের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেয়।

অথচ সেই ঘটনার পরে বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও ওসি কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় ফের মামলাটি গ্রহণের আবেদন রাখেন শাহ আলম। কিন্তু এখন ওসি মাহাবুব উল আলম অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণে গড়িমসি শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তোভুগী শাহ আলম।

তবে মামলা গ্রহণে গড়িমসির বিষয়টি অস্বীকার করে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব উল ইসলাম বলছেন- ওয়ার্ডের একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি এসে বিষয়টিকে মীমাংসা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আটক দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসময় তাদের দুদিন সময় বেধে দেওয়া হলেও এত বিলম্ব কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন- আর ২/১দিন দেখে বিষয়টিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Share.

About Author

Leave A Reply