শিপন ও মনিরের মাদক ও নারী ব্যাবসা জমজমাট।

0

শিপন ও মনিরের মাদক ও নারী ব্যাবসা জমজমাট।

বরিশাল নগরীর চিহ্নিত নারীর দালাল মনির ও শিপন। যাদের রয়েছে পোর্ট রোড, পদ্মাবতি ও দক্ষিণ চক বাজার এলাকায় ১৭টি আবাসিক হোটেলে। যার প্রতিটিতেই চলছে প্রকাশ্য পতিতা ও মাদক ব্যবসা। অথচ তাদের লাগাম টেনে দিতে পারছে না র‌্যাব, পুলিশ বা ডিবি। মাঝে মধ্যেই অভিযানের নামে আই ওয়াশ চললেও ধরা পড়ছে না দালাল মনির ও শিপন। এক প্রকার মনির ও শিপনের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে গোটা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। যদিও উৎকোচের বিনিময়ে পুলিশ ও ডিবি’র কতিপয় সদস্য’র বিরুদ্ধে আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসায় সহযোগিতার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, নগরীতে যে সংখ্যক আবাসিক হোটেল রয়েছে যার সিংহভাগ কোতয়ালী মডেল থানা এলাকায়। এসব আবাসিক হোটেলেই বছরের পর বছর ধরে চলছে দেহ ব্যবসা। বিশেস করে নগরীর দক্ষিণ চক বাজার, পোর্ট রোড, পদ্মাবতি এবং ফজলুল হক এভিনিউ সড়ক এলাজা ঘিরে গড়ে ওঠা নাম মাত্র আবাসিক হোটেলের প্রতিটিতেই এ ব্যবসা এখন রমরমা। কোন হোটেলে পতিতা ব্যবসায়ীদের রাখা হয় আবার বেশিরভাগ হোটেলে কলগার্ল দিয়ে চলছে পতিতা ব্যবসা।

অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে এমন একাধিক হোটেলের নাম। হোটেলগুলো হলো- নগরীর দক্ষিণ চক বাজার নগর ভবনের পেছনের অংশে আবাসিক হোটেল পায়েল, ভোলা বোডিং, হোটেল জিলানী, হোটেল গালীব, হোটেল গ্রান্ড প্লাজা, মিয়া বোডিং, হোটেল কীর্তনখোলা, বরগুনা আবাসিক হোটেল, খান আবাসিক হোটেল, পদ্মাবতি রোডের হোটেল দোয়েল, হাওলাদার বোডিং, গোল্ডেন প্যালেস, হোটেল নছিব, ফজলুল হক এভিনিউ সড়কে হাজী মোহাম্মদ মহসিন মার্কেটে উজিরপুর বোডিং ও এর মধ্যে হোটেল গালিব, হোটেল পায়েল সহ ১৩টি হোটেল নিয়ন্ত্রন করে নারীর দালাল মনির। এছাড়া ভোলা বোডিং, সি-প্যালেস, বরগুনা ও ঝিনুক হোটেল নিয়ন্ত্রন করে শিপন। নারীর দালালের তালিকায় রয়েছে পোর্ট রোডের ইসমাইলের নামও।

বেশ কয়েকজন হোটেল ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, মনির ও শিপন শুধু নারীদের দিয়ে দেহ ব্যবসাই করান না। হোটেলের মধ্যে চলে তাদের মাদকের ব্যবসাও। বিশেষ করে শিপনের নিয়ন্ত্রিত চারটি হোটেলে সন্ধ্যা থেকে গভির রাত পর্যন্ত পতিতা ও মদক ব্যবসা চলছে। এসব করে তারা দু’জনই কোটিপতি বনে গেছেন।

সূত্র জানায়, রূপাতলী এলাকার মনি’র এক সময় হোটেলের কর্মচারী ছিলো। সেখান থেকেই শুরু হয় তার নারীর দালালী ব্যবসা। বর্তমানে তিনি ১৩টি হোটেল ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। যার মধ্যে ৬টি হোটেলে সার্বক্ষনিক পতিতাদের রাখা হয়। প্রতি সপ্তাহে ঢাকা এবং উত্তরাঞ্চলের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের এনে রাখা হয় হোটেলগুলোতে। ৬টি হোটেলে রাখা নারীদের কর্লগাল হিসেবে পাঠানো হয় নগরীর বিভিন্ন নামিদামী হোটেলে। এসব করে প্রতি মাসে মনিরের আয় হচ্ছে ৩৬ লাখ টাকার বেশি। যা দিয়ে মনির এখন কোটিপতি বনে গেছেন। রূপাতলী এলাকায় বিলাশবহুল বাড়ি সহ হয়েছেন বিপুল সম্পদের মালিক।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, প্রায় সময় কোতয়ালী এবং ডিবি পুলিশ হোটেলগুলোতে অভিযান চালাচ্ছেন। ধরে নিয়ে যাচ্ছেন পতিতা ও খদ্দেরদের। কিন্তু আদৌ ধরা পড়েনি মুল গডফাদার ও নারীর দালাল মনির, শিপন বা ইসমাইল সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা। বরং ধরা পড়া পতিতা ও খদ্দেরদের ছাড়িয়ে আনার কাজ করছে তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজ

Share.

About Author

Leave A Reply