মাঝি শূন্য বরিশাল সদর নৌ থানা

0

মাঝি শূন্য বরিশাল সদর নৌ থানা!

স্টাফ রিপোর্টার :: মাঝি শূন্য হয়ে পড়েছে বরিশাল সদর নৌ-থানা পুলিশ। সদর নৌ থানায় প্রতিনিয়ত ৫ জন মাঝি দায়িত্ব পালন করে আসলেও বর্তমানে নেই কোনো মাঝি। মাঝিদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণেই তাদেরকে সদর নৌ থানার দায়িত্ব থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানান নৌ-থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন।

নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় অবস্থিত বরিশাল সদর নৌ-থানা। জলসীমায় নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য নৌ-থানা পুলিশ সদস্যরা বিশেষভাবে ভূমিকা রাখেন। যাত্রী সেবার পাশাপাশি নদী পথে সরকারের নিদের্শ মতে ইলিশ রক্ষায়ও কঠোর ভূমিকা রাখেন নৌ-থানা পুলিশের সদস্যরা। নৌ পুলিশের সেই সুনাম নষ্ট করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন নৌ-থানা পুলিশের মাঝিরা।

ফলে পুলিশের সুনাম ধরে রাখতেই মাঝিদের বাদ দিয়ে দেয় থানা কর্তৃপক্ষ। সূত্রে জানা গেছে, মা ও জাটকা ইলিশ রক্ষায় নদীপথে নৌ পুলিশের অভিযানে পথ চিনিয়ে দেয়ার জন্য এবং জাল টানাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য মাঝিদের সাথে নেয়া হয়। যদিও নির্দিষ্ট মাঝিদের দিয়েই এ কাজটি করানো হয়। ফলে মৌখিক ভাবে ৫ জন মাঝিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। নৌ-পুলিশের বিভিন্ন টিমের সাথে ১ জন করে মাঝি নদীতে যান। নৌ-থানার মাঝির দায়ীত্ব পালন করতেও রয়েছে প্রতিযোগিতা। কথিত রয়েছে যে যত বেশি টাকা দিবেন তাকেই মাঝি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে।

মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মাঝিদের নিয়োগ দেয়ার ফলে মাঝিরা নৌ-পুলিশের নামে প্রতিমাসে হাজার হাজার টাকা ওঠান বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নৌ থানায় অস্থায়ী মাঝির সংখ্যা ৫ জন। এরা হলেন রাজু, কালাম, পারভেজ, অলি, সুমন মিরা ও আল-আমিন মাঝি। এদের মধ্যে সুমন মিরা দায়িত্ব নিয়ে আল-আমিনকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

এ মাঝিরাই বিভিন্ন সময় অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবসা, রেণুপোনা, মা ও জাটকা ইলিশ পাচার, চোরাই মালামাল পাচার, চোরাই তেল ব্যবসাসহ নানা অবৈধ কাজে জড়িত থাকেন। আবার নদী থেকে যে অবৈধ জাল ও মাছ জব্দ করা হয় তা মাঝিদের দিয়েই বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন নৌ-থানা পুলিশের অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা- এমনটাই জানা গেছে। এরই ধারবাহিকতায় গত কয়েক দিন পূর্বে ইলিশ রক্ষায় নদী পথে নৌ-পুলিশের সাথে অভিযানে যান সুমন মিরার সহযোগী মাঝি আল আমিন।

অভিযান শেষে নৌ-পুলিশের সাথে সদর ঘাটে ট্রলার নিয়ে আসেন আল আমিন। সেই সময় ওই ট্রলারে প্রায় ২০ হাজার টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল নিয়ে আল আমিন তার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এসময় ট্রলারে অবৈধ জাল থাকার বিষয়টি এক সাংবাদিককে জানান অপর এক মাঝি পারভেজ। ফোন পেয়ে সাংবাদিক পারভেজের কাছে গেলে তিনি ট্রলার ভাড়া বাবদ ১ হাজার টাকা দেন সাংবাদিককে। পরে ওই সংবাদকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে আল আমিনের কাছ থেকে মাত্র ৩ হাজার টাকার বিনিয়মে অবৈধ জালের বিষয়টি গোপন রাখেন। পরবর্তীতে এ খবর নৌ-থানা পুলিশ জানতে পেরে থানার সকল মাঝিদের দায়িত্ব থেকে বাদ দিয়ে দেয়। এভাবেই বিভিন্ন সংবাদকর্মী ও প্রশাসনের সদস্যদের ম্যানেজ করে এ অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন মাঝিরা।

এসকল বিষয়ে জানতে বরিশাল নৌ-থানা পুলিশের ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাঝিদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে তাদেরকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেয়া হয়েছ। তবে তারা ‘স্থায়ী’ কোনো মাঝি না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসময় তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে পুনরায় এসকল মাঝিদের দিয়েও কাজ করা হতে পারে

Share.

About Author

Leave A Reply