বরিশালে বন্ধ হয়নি অবৈধভাবে ফুটপাত দখল বাণিজ্য , নেপথ্যে সক্রিয় দালাল চক্র (!)

0

বরিশালে বন্ধ হয়নি অবৈধভাবে ফুটপাত দখল বাণিজ্য , নেপথ্যে সক্রিয় দালাল চক্র (!)

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বরিশাল নগরীর সর্বত্রই এখন অবৈধ ফুটপাত দখলে ভর্তি।
বস্তুত পক্ষে দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি ফুটপাত নাকি ব্যবসাকেন্দ্র। হাঁটার জায়গাজুড়ে পণ্যসামগ্রীর পসরা আর হকারদের ব্যস্ততা। পথচারীরা ফুটপাতে জায়গা না পেয়ে রাস্তায় হাঁটবেন, সেখানেও একই অবস্থা। রাস্তা দখল করে গাড়ি পার্কিং আর হকারদের ব্যবসা। এমনকি সরকারি অনেক গুরুত্বপূর্ণ অফিসের পথও রুদ্ধ হয়ে গেছে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়িদের প্রতিষ্ঠানের কারণে।
একদিকে ফুটপাত দখল, অন্যদিকে রাস্তায়ও ঠিকভাবে হাঁটার অবস্থা নেই। ফুটপাত থেকে নামতেই রাস্তার পাশজুড়ে সারি সারি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সাইকেল আর মোটরসাইকেলের ভিড়। তখন আরও বিড়ম্বনা আরও বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই এলাকার একতলা লঞ্চঘাটের সামনে গেট সংলগ্ন ফুটপাতের ওপরে অন্তত ১৫ থেকে ২০ টি ফলের দোকান বসানো হয়েছে। পাশপাশি চা বিক্রেতারাও ফুটপাত দখল করছেন। ফলে লোকজন চলাচল করছে খুব কষ্ট করে। একদম গা ঘেঁষাঘেঁষি করে। পাশাপাশি দুজনের হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। ঠেলাঠেলি করে হাঁটতে হয়। তা ছাড়া একটি ফলের দোকান এমনভাবে বসানো হয়েছে এতে একতলা লঞ্চ টার্মিনালের প্রবেশপথও বন্ধ হয়ে গেছে।
এর পাশেই হাজী মুহাম্মদ মহশিন মার্কেটের সামনের ফুটপাতে বসেছে পোশাকের দোকান। ওই মার্কেটের দোকানিরা ফুটপাতে পণ্যসামগ্রীর পসরা সাজিয়েছেন। এছাড়া মহশিন মার্কেটের পেছনের একমাত্র সড়কটিও দখলে নিয়ে স্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। অথচ পাশেই রয়েছে স্টীমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ি। কিন্তু সড়ক দখল রোধে তাদের কোন পদক্ষেপ নেই।
একই অবস্থা শহরের সদর রোড, কাকলির মোড়, পোর্টরোড, রুপাতলী, চৌমাথা, নথুল্লাবাদ, নতুন বাজার ও মোড়কখোলার পুলসহ বিভিন্ন এলাকার। এভাবে নগরের অধিকাংশ ফুটপাত চলে গেছে হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের দখলে। এমন পরিস্থিতিতে ওই সব এলাকায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন।

এমন বাস্তবতায় লঞ্চঘাট এলাকার একজন হকার নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে বলেন, ‘মানুষ চলাচলে ফুটপাতে অসুবিধা হওয়ায় রাস্তায় নেমে এসেছি। অনেক বছর ধরেই এভাবে ফুটপাত আর রাস্তায় ব্যবসা করছি। কিন্তু কেউ বাধা দেয় না। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশ তুলে দিলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ফের চলে আসছি।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাত বা সড়ক দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা ওয়াকিবহাল। কিন্তু ম্যাজিস্টেট বা পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টার মাথায় ফের দখল হয়ে যাচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) খাইরুল ইসলাম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের ভাষ্য হচ্ছে, নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। কারণ কোতয়ালি থানা পুলিশ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে তাদের উচ্ছেদও করেছে।
অবশ্য এই বিষয়টি বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার সহকারি কমিশনার (এসি) রাসেলও স্বীকার করেছেন।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, ‘সিটি কর্পোরেশন ও ব্যবসায়ী সমিতির সহযোগিতায় মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফুটপাত থেকে অবৈধ ব্যবসা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এমনকি তখন ১৫ ব্যবসায়িকে থানা নিয়ে এসে মুচলেকা রেখে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু এখন আবার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা শুরু করার বিষয়টি শুনেছি। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে তাদের উচ্ছেদে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
গোপনে দোকানী ও আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় এ অবৈধ দখল বজায় রাখতে অসাধু পুলিশ, কথিত সাংবাদিক ও দালালদের তদবির রয়েছে। এজন্য কোন ফুটপাত উদ্ধার অভিযান চালানো হয় না।

এ রিপোর্ট করা পর্যন্ত তেমন কোন দৃশ্যমান ব্যাবস্থা গ্রহন করতে দেখা যায়নি ।

Share.

About Author

Leave A Reply