বরিশালে মাসোয়ারার ফাঁকে ভ্যাট রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

0

বরিশালে মাসোয়ারার ফাঁকে ভ্যাট রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিকিকিনির তুলনায় নামমাত্র ভ্যাট দিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে নগরীর চকবাজার, পদ্মাবতী ও কাটপট্টি এলাকার অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয় প্রায় দশ ধরণের পাঁচ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও ভ্যাটের আওতায় রয়েছে ২/৩শ। আর ভ্যাটের আওতাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা ভ্যাট কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস করে বিক্রির তুলনায় কম ভ্যাট দেয়। আর এটি আরো এগিয়ে দেয় ব্যবসায়ী মালিক সমিতি সংগঠন।

যদিও এব্যাপারে চকবাজার, কাটপট্টি ও পদ্মাবতি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ রহিম বলেন, আমাদেরকে ভ্যাট অফিস থেকে চাপ দেয়া হয় যাতে সঠিকভাবে ভ্যাট দেয়া হয়। অথচ একাধিক স্থানীয়সুত্র নাম অপ্রকাশের শর্তে বলেন, চকবাজারে অনেক ধনী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা সমিতির মাধ্যমে ভ্যাটের মাঠ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে মাসোয়ারা দিয়ে অনেক কম ভ্যাট দেয়। আর যদি আমাদের নাম প্রকাশ করে দেন তাহলে ভ্যাট দপ্তরের লোকজন এসে আমাদেরও ভ্যাট বাড়িয়ে দেবে।

সরেজমিন সুত্রে, ফলপট্টির মোড় থেকে চকের পোল, পদ্মাবতি, কাটপট্টিসহ এলাকায় প্রায় পাঁচশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে পোশাক, কসমেটিক্স, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, পাপস ও কার্পেট, যাজিম-তোশক, লেপ-পর্দা, জুতাসহ নানান ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা নগরীতে প্রকাশ্যে দিবালোকে ভ্যাট চালান ছাড়া পণ্য পরিবহন করে থাকে, যা ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার বর্হিপ্রকাশ। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় ডুপ্লিকেট বা নকল ভ্যাট চালান ব্যবহার করে থাকে। একই ভ্যাট চালান একাধিকবারও ব্যবহার করে। পণ্য বিক্রির তথ্য বিক্রয় রেজিষ্ট্রারে কখনো কখনো সঠিক উল্লেখ করে কখনো আবার আংশিকভাবে লিপিবদ্ধ করে রাখে।

এছাড়াও ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। এমনকি ইসিআর এবং পিওএস নষ্ট থাকার কথা বলে। আবার ইসিআর বা পিওএস চালান ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ব্যবসায়ীরা হাতে লেখা চালান ব্যবহার করে থাকে। এবং দাখিলপত্র প্রদানের সময় ইসিআর এবং পিওএস চালান সংযুক্ত করে জমা দেয়া। যাতে সহজেই প্রমানিত হয় যে, ইসিআর বা পিওএস চালানে বিক্রয় কম, ফলে ভ্যাটও কম দিতে হয়। নিজস্ব বিক্রয় ভাউচার ব্যবহার ও ভোক্তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করে তার একটি বড় অংশ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া বা সময়মতো প্রদান না করা। অপরদিকে চকবাজার এলাকার সহকারী রেভিনিউ অফিসার (এআরও) মো: হারুন বলেন, এধরণের কোন সুযোগ নেই। কারন দৈনন্দিন বিকিকিনির রেজিস্টার সংরক্ষণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সেক্ষেত্রে আমাদের ভ্যাট নির্ধারণ করতেও সমস্যা হয়না। এছাড়া অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ভ্যাটের আওতায় আনতে আমরা চেষ্টা করছি।

অপরদিকে নগরীতে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, চাইনিজ রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুডের দোকান, ক্যাটারিং সার্ভিস, বিরিয়ানি হাউস, বিউটি পার্লার, মিষ্টির দোকান, ডেকোরেটর ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান প্রতিদিনের বিক্রয় তথ্য ছোট ছোট কাঁচা স্লিপে রাখে, এই তথ্য প্রমাণাদি যাতে খুঁজে না পাওয়া যায় সে জন্য লুকিয়ে রাখেন ব্যবসায়ীরা। ক্রয়-বিক্রয় রেজিষ্ট্রার ও ভ্যাট চালানসহ কোনো ধরনের হিসাব এবং দলিলাদি ব্যবহার বা সংরক্ষণ করে না। ভ্যাট ফাঁকি বন্ধে সারা দেশের সব দোকানে ইসিআর ও পিওএস মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

দোকান মালিকদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে ইসিআর মেশিন স্থাপন নিশ্চিত করতে বলেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ দুই যন্ত্রের মাধ্যমে দোকানে প্রতিদিন কত টাকা বিক্রি ও কত টাকা ভ্যাট আদায় করা হয়েছে, তার হিসাব রাখা হয়। কিন্তু নগরীর অধিকাংশ দোকান মালিকই তাদের প্রতিষ্ঠানে এই যন্ত্রের ব্যবহার করে না। ফলে সহজেই ভ্যাট কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা আর রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

Share.

About Author

Leave A Reply