বরিশালে জেএসসি পরীক্ষার্থীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ

0

বরিশালে জেএসসি পরীক্ষার্থীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ

বরিশাল ★★ বরিশালে জেএসসি পরীক্ষার্থীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। জেএসসি পরীক্ষার্থীর নাম মইন খন্দকার (১৪)।
রবিবার (১৭ নভেম্বর) কারাগারে মইনের সঙ্গে দেখা করার পর মা শাহিনুর বেগম ও বাবা সাইদুল হক হিরন ছেলেকে অমানুষিক পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ করেন। ছেলের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলেন, তার হাত বেঁধে কোমরের নিচের অংশে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আটকের পর তাকে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বিমানবন্দর থানার এসআই এনামুল হকের বিরুদ্ধে। মইনকে ফাঁসানো হয়েছে কিনা তদন্ত করছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মসজিদের পাশে গাছের ওপর মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত ছিল মইন। মাগরিবের নামাজের পর দুইজন সাদা পোশাকধারী এসে মইনকে জাপটে ধরে মারধর করতে থাকে। ঘটনাস্থলে থাকা সাধারণ লোকজন এগিয়ে গেলে ওই দুইজন পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলে, তার (মইন) কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উপস্থিত লোকজন ইয়াবা দেখতে চাইলে তারা দেখাতে পারেনি।
মইনের মা শাহিনুর বেগম বলেন, ছেলের চিৎকার শুনে তিনি ঘর থেকে ছুটে আসার পর পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে এসআই এনামুল বলেন, ‘তোরে লাথি মাইরা দশ হাত দূরে ফালামু’। তার সামনেই মইনকে একাধিকবার চর-থাপ্পড় দেয় পুলিশ কর্মকর্তা।
দিয়াপাড়া ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা চৌধুরী ডলি জানান, মইন তার স্কুল থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ছেলেটিকে আটক করে মিথ্যা মামলা দেয়ায় দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করবেন।
এদিকে ২৯ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ আহম্মেদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার জসিম উদ্দিন শনিবার বিএমপি’র উপকমিশনার (উত্তর) মোকতার হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাত করে মইনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর বিষয়ে নালিশ দিয়েছেন। উপকমিশনার মোকতার হোসেন শনিবার রাতে বলেন, একজন সহকারী কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জেএসসি পরীক্ষার্থী মইনের বাবা সাইদুল হক হিরণ বলেন, শনিবার রাতে পুলিশ কার্যালয়ে ডেকে তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। রবিবার দুপুরে বিমানবন্দর থানার ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য শোনেন। ওসি এসএম জাহিদ উদ্দিন আলম বলেন, মইনকে ফাঁসানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

Share.

About Author

Leave A Reply