পৌনে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বরিশালে মাদ্রাসার অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু

0

পৌনে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বরিশালে মাদ্রাসার অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু

অনলাইন ডেস্ক★★ জেলার উত্তর জনপদের ঐতিহ্যবাহী গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু সাইদ কামেল কাওছারের বিরুদ্ধে বিস্তার অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে মাদ্রাসার তিনজন শিক্ষক অধ্যক্ষর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকালে মোবাইল ফোনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ পাওয়ার পর বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদ্রাসার তিনজন শিক্ষকের আবেদনে অধ্যক্ষ কাওছারের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার বিভিন্নখাত থেকে দূর্নীতির মাধ্যমে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা আত্মসাত, স্বেচ্ছাচারিতা, জুলুম ও অত্যাচারের বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপনের ঘনিষ্ঠ ক্যাডার হিসেবে চিহ্নিত অধ্যক্ষর ভাগ্নে নাছরুল খলিফাকে মাদ্রাসার গাছ বিনামূল্যে দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।

এমনকি মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষকের নামে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারী শিক্ষকরা অধ্যক্ষ কাওছারের বিরুদ্ধে কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে দাবী করেছেন। মাদ্রাসার সহকারী কম্পিউটার শিক্ষক ফিরোজ আলম জানান, কেউ হয়তো আমার নাম ব্যবহার করে অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। তবে তদন্ত করা হলে অভিযোগের অধিকাংশর সত্যতা পাওয়া যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাদ্রাসার সহকারী কম্পিউটার শিক্ষক ফিরোজ আলম বলেন, ২০১৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর আমার প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে কে বা কারা আমার বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় অভিযোগ প্রদান করেন। এরপর মাদ্রাসা থেকে আমাকে নোটিশ প্রদান করা হয়। আমি (ফিরোজ) নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার পরেও আমার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় অধ্যক্ষ। তিনি আরও বলেন, আমার প্রথম স্ত্রীর নাম ও স্বাক্ষর জাল করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করানো হয়েছে, সে বিষয়টি আমার প্রথম স্ত্রী অধ্যক্ষকে লিখিতভাবে জানানো সত্বেও অধ্যক্ষ তার (ফিরোজ) বেতন ছাড়ার জন্য দুই লাখ টাকা দাবী করেন। তিনি আরও বলেন, অধ্যক্ষর দাবীকৃত দুই লাখ টাকা দিতে না পারায় গত ১০ মাস যাবত আমার বেতন বন্ধ থাকায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে আমি মানবেতর জীবনযাপন করছি।

এ বিষয়ে কাসেমাবাদ সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু সাইয়্যেদ কামেল মোঃ কাওছার জানান, একটি বিশেষ মহল ষড়যন্ত্র করে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য মাদ্রাসার তিনজন শিক্ষকের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেছে। যার কোনটি সত্য নয়। এ বিষয়ে শিক্ষকরা সভা ডেকে রেজুলেশনও করেছেন। তবে রেজুলেশনে প্রায় সব শিক্ষকদের স্বাক্ষর থাকলেও আরবি প্রভাষক আবু ছালেহ ও সহকারী কম্পিউটার শিক্ষক ফিরোজ আলমের স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি

Share.

About Author

Leave A Reply