বরিশাল ক্রাইম পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শাহআলম গ্রেফতার ও কিছু কথা

0

বরিশাল ক্রাইম পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক শাহআলম গ্রেফতার ও কিছু কথা।

পরিমল মজুমদার ★★ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে ইটের ভাটায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়ে অবশেষে থানা হাজতের মেহমান হয়ে রাত্রি যাপন করতে বাধ্য হয়েছেন বরিশাল থেকে ডিক্লারেশনপ্রাপ্ত দক্ষিণাঞ্চলের সবচে’ বিতর্কিত আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা ‘দৈনিক বরিশাল ক্রাইম’র সম্পাদক ও প্রকাশক কুখ্যাত চাঁদাবাজ এইচ এম শাহআলম শাহ ওরফে শাহআলম ফকির। বরগুনা জেলার আমতলী থানায় আজ(২৬ ডিসেম্বর) বিকেলের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, শাহআলম দু’ তিন জনের একটি গ্রুপ নিয়ে প্রতিদিনের ন্যায় আজ সকাল থেকে বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় ইটের ভাটায় হানা দিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার এক পর্যায়ে আমতলী এলাকার একটি ইটের ভাটায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। এ সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালের একাউন্টেন্ট সুকুমার দাসের নাম ভাঙ্গিয়ে কেটে পড়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুকুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করে প্রতারনার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে আটক করে স্থানীয় চৌরাস্তায় গণপিটুনি দিয়ে আমতলী থানায় সোপর্দ করেন। অতঃ:পর জনৈক মাসুদ হাসান বাদী হয়ে শাহআলমের বিরুদ্ধে প্রতারনার অভিযোগে আমতলী থানায় রাত ৯ টার দিকে একটি এজাহার দায়ের করেন। মামলা নং-১৫। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবুল বাসার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শাহআলমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রতারনার অনেক অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর শাহআলমের নেতৃত্বে সুন্দরী মহিলাসহ ৫ জনের একটি গুরুপ উজিরপুরের মালিকান্দা মাহমুদিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভিজিটর টিম পরিচয়ে হানা দিলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি স্থানীয় বড়াকোঠা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি মো. মোস্তফা কামালকে খবর দিলে তিনি এসে সন্দেহ বশত: তাদের পাকড়াও করেন। এ সময় চাঁদাবাজ ওই চক্রের সদস্যরা মাদ্রাসার সভাপতি, অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের হাত-পা ধরে এবং বরিশাল আওয়ামী ঘরানার কয়েকজন নেতার সুপারিশে সে যাত্রায় রক্ষা পায়। ছাড়া পাওয়ার পর নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছেই শাহআলম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা মাদ্রাসার সভাপতি মোস্তফা কামালকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিলে ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি শাহআলমের বিরুদ্ধে উজিরপুর থানায় একটি জিডি করেন। জিডি নং-৫৩২। পরদিন বরিশালের প্রথম সারির প্রায় সবকয়টি পত্রিকায় এ ঘটনায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শাহআলমের দ্বিতীয় স্ত্রী বাকেরগঞ্জ থাণার সাবেক কমিশনার আনোয়ারা বেগম শাহআলমকে ছাড়াতে মরিয়া হয়ে বাঁচাতে রাতেই আমতলী পৌঁছেছেন। শাহআলমের বিরুদ্ধে আদালত ও বিভিন্ন থানায় রয়েছে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি মামলা ও জিডিসহ অসংখ্য অভিযোগ। কিন্তু তার যাদুর কাঠিতে কোনো মহলই তাকে আটকাতে পারেনি। একমাত্র আমতলী থানার ওসি তার সততা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন ওই দুধর্ষ প্রতারক ও চাঁদাবাজ সম্পাদক-প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে থানা হাজতে আটকিয়ে। তবে এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ও স্বচ্ছ মিডিয়াকর্মীরা তথ্য দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন বলে থানা কর্তৃপক্ষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

Share.

About Author

Leave A Reply