ক্রসফায়ারের দাবি আমরা করতে পারিনা – ওবায়দুল কাদের(এমপি)

0

ক্রসফায়ারের দাবি আমরা করতে পারিনা – ওবায়দুল কাদের(এমপি)

শিশু ও নারী ধর্ষণের সর্বোচ্চ শান্তি মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এ ধরনের অমানবিক ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ড নিরসনে প্রয়োজনে ধর্ষকদের ক্রসফায়ার দেয়ার দাবিতে এমপিরা সংসদে যে বক্তব্য তুলেছেন, সেটা তাদের ব্যক্তিগত মতামত বলে উল্লেখ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মতামত ব্যক্ত করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা (জাতীয় সংসদে) বক্তব্য রেখেছেন এনকাউন্টারের পক্ষে, আমার মনে হয়, এটা তাদের ব্যক্তিগত মতামত। এটা সরকার বা দলের কোনো বক্তব্য নয়। আমরা এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারকে সমর্থন করতে পারি না। এটা সংবিধানের আওতার বাইরে। কারণ এটা সংবিধানসম্মত নয়।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের দু’জন সিনিয়র সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক চুন্ন পয়েন্ট অব অর্ডারে ক্রসফায়ারের দাবি জানালে তাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন সরকারি দলের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদও।

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ফ্লোর নিয়ে বলেন, আল্লাহকে হাজির-নাজির করে বলছি, এ সব ধর্ষককে ক্রসফায়ার করলে কোনো পাপ হবে না, বরং বেহেস্তে যাওয়া যাবে। কোনো অসুবিধা নেই।

তবে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির যে সংসদ সদস্যরা এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন, তারা সরাসরি ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টারের দাবি করার বিষয় অস্বীকার করেছেন।

বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে মুজিবুল হক বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টারের সমর্থনে বক্তব্য দেয়ার বিষয় স্বীকার করেননি।

সেই আলোচনায় অংশ নেয়া অন্যরাও সরাসরি এমন কোনো বক্তব্য দেয়ার বিষয় অস্বীকার করেছেন।

এদিকে জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ বিবিসিকে বলেছেন, ধর্ষণের মামলায় যেহেতু সাক্ষী পাওয়া যায় না। সেকারণে এসব মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে। ফলে এই অপরাধ কমছে না। বরং উদ্বেগ বাড়ছেই।

এমন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি মাদক এবং জঙ্গি দমনের মতো ধর্ষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আসলে পার্লামেন্টে জাতীয় পার্টির দুজন সদস্য বক্তব্য রেখেছেন। তারা বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। এই যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যখন একজনকে আক্রমণ করে, তিনি কিন্তু নাই। স্পটেই ডেথ। ভারতে বাস থেকে নামার পর একজন ডাক্তার মেয়েকে চারজন ধর্ষণ করেছে। চারজনকেই ক্রসফায়ার দিয়েছে। তারপর আর ভারতে এমন ঘটনা ঘটে নাই।

তিনি আরও বলেছেন, এজন্য প্রশ্ন উঠেছে যে যারা ছোট শিশুদের সঙ্গে এমন পাশবিক নির্যাতন করে, তাদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নাই। যখন চিহ্নিত হচ্ছে যে এই লোকটা ধর্ষণের পর হত্যা করেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তো স্পটেই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। সেই কথা বলা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Share.

About Author

Leave A Reply