ঝালকাঠি জাহিদ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন

0

ঝালকাঠি জাহিদ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ** ঝালকাঠি গাবখান সেতুর টোল প্লাজায় প্রায় চার বছর আগে সংগঠিত জাহিদ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত দুই আসামী মিজান খলিফা ও মিরাজ মৃধার বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে ঝালকাঠির বিজ্ঞ অতিরিক্তি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ মো. তোফায়েল হাসান দ-বিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।
অভিযোগ গঠনের সময় আসামীরা উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রাস্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আ.স.ম মোস্তাফিজুর রহমান মনু। তাকে সহায়তা করেন বাদি নিয়োজিত আইনজীবী মো. আক্কাস সিকদার।
আসামী পক্ষে ছিলেন এ্যাড. আব্দুল আলীম।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ মে ঝালকাঠির গাবখান সেতুর টোল প্লাজায় টোল আদায়ের কাজ করছিল একই এলাকার মো. ফারুক হোসেনের ছেলে মো. জাহিদ হোসেন (২৭)। সকাল ৯ টার দিকে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির খানের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত মিজান খলিফার মালিকানাধীন একটি ট্রলিতে টোল দাবি করলে জাহিদের ওপর ক্ষিপ্ত হয় মিজান খলিফা। একই দিন সন্ধ্যা ৬ টার দিকে টোলপ্লাজায় ডিউটি করা কালে মিজান খলিফা ও মিজান মৃধা লোহার রড ও পাইপ নিয়ে হামলা চালায় জাহিদের ওপর। এসময় জাহিদের মাথায় মারাত্মক জখম করে মিজান ও মিরাজ পালিয়ে যায়। টোল প্লাজার কর্মীরা জাহিদকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে জাহিদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাঁচদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ১৬ মে জাহিদ মারা যায়।

জাহিদ মারা যাওয়া আগেই জাহিদের বাবা ফারুক হোসেন ঝালকাঠি থানায় দ-বিধির ৩২৩,৩২৪,৩২৬ ও ৫০৬ ধারায় একটি হত্যা চেস্টা মামলা দায়ের করেন। জাহিদ মারা যাওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই গৌতম কুমার ঘোষ আদালতের অনুমতি নিয়ে একই বছর ৩১ ডিসেম্বর দ-বিধির ৩২৩,৩০২.৩৪ ও ৫০৬ ধারায় আসামী মিজান ও মিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৭ সালের ৭ জুলাই মামলাটি বিচারের জন্য ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নথিভুক্ত হয়। দুই আসামী হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে প্রায়ই আদালতে গড় হাজির থাকে এবং অভিযোগ গঠনের জন্য সময়ের আবেদন করে।

২০১৯ সালের ৩ মার্চ বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বদলি করা হয়।
২ ফেব্রুয়ারি রবিবার মামলার ধার্য্য তারিখে দুই আসামী অনুপস্থিত থেকে তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে অভিযোগ গঠন এবং অব্যহতির দরখাস্ত শুনানীর জন্য সময়ের আবেদন করলে আদালতের বিচারক সময়ের আবেদন এবং অব্যহতির আবেদন না মঞ্জুর করে আসামীর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন এবং অভিযোগ গঠন করেন।
উল্লেখ্য, আগামী ০১ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে

Share.

About Author

Leave A Reply