ভয়ংকর প্রতারণা ও অভিনব চাঁদাবাজির অভিযোগ মুক্তা মৃধার বিরুদ্ধে ।

0

“ভয়ংকর প্রতারক ও অভিনব চাঁদাবাজ বিএম কলেজ ছাত্রী মুক্তা মৃধা”

সুভাস || বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযুক্ত বিএম কলেজ ছাত্রী ও বনমালী হোস্টেল নিবাসী মুক্তা মৃধা সম্পর্কে ভয়ংকর সব তথ্য পাওয়া গেছে সরেজমিনে।

মুক্তা মৃধা স্বরূপকাঠী উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের মুক্তাহার গ্রামের মৃত দিলীপ মৃধার মেয়ে এবং শেখের হাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পার্থ মৃধার ছোট বোন। উচ্চশিক্ষার জন্য পার্থ মৃধা বোনকে বরিশাল শহরের বিএম কলেজে ভর্তি করিয়ে বনমালী হোস্টেলে রাখে। হোস্টেলে এসে ছাত্রলীগ নামধারী কিছু পথভ্রষ্ট ছেলে মেয়ের সাথে যুক্ত হয়ে ভয়ংকর পথে পা বাড়ায় মুক্তা মৃধা।

বরিশাল ইসকন ভক্ত এই পরিচয়টাই সব জায়গায় ব্যবহার করে সে। বরিশাল ইসকনে যোগাযোগ করলে জানা যায় যে, “সে সেখানকার আদৌ ভক্ত না। মাঝে মাঝে আসে বিশেষ করে এখানে খাবার খায় ঘোরে এবং গলায় তুলসীর মালা পড়ে ভাব দেখায় ইসকন ভক্ত। মন্দির সবার জন্য উন্মুক্ত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখানে ছেলেদেরকেও নিয়ে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দেয়। তবে তার সম্পর্কে অনেক বাজে তথ্যই আমরা শুনি মাত্র”।

থানায় অভিযোগকারী সুভাষ দাসের সাথে আলাপকালে জানা গেলো ভয়ংকর চরিত্র মুক্তা মৃধার। তার সাথে প্রতারনা, মানহানী, চাঁদাবাজি, হ্যারাজমেন্টের মত জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে সে। তিনি জানান,
“মুক্তা মৃধার বাড়ি আমার মামার বাড়ির এলাকা স্বরূপকাঠীর সমুদয়কাঠীতে এবং মামাত ভাই ভাইস চেয়ারম্যান রনি দত্তের ডান হাত ও ছাত্রলীগ নেতা বাপ্পি মৃধার কাকাত বোন। সেই সুবাদে এবং ইসকন ভক্ত পরিচয়ে আমার সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলে এমনকি বিয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। আমার পরিবারের সাথেও ঘনিষ্ট হয় আমার বাড়িতে যাতায়াতের মাধ্যমে। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হোস্টেলে থাকে সম্পর্কের সুবাদে নানা আবদার জানাতো। যেহেতু বাসাতেও সবাই মেনে নিয়েছে তাই হবু বউ হিসেবেই বাসায় আসতো যেতো থাকতো। মেয়ের মা বিভা রানীকেও আমি ফোনে বিয়ের বিষয়ে অবহিত করি এবং তিনি জানান পরীক্ষা শেষ হলে তাদের বাড়িতে যেতে। এক বছর এভাবেই ঘনিষ্ট সম্পর্ক চলতে থাকে এবং হাত খরচ, পড়ালেখার আংশিক খরচ, পোশাক সহ নানা জিনিস কেনাকাটা, বিভিন্ন পার্কে এবং কুয়াকাটা ঘোরাফেরা সহ যাবতীয় খরচ আমিই বহন করি। আমার বাসাতে আমার রুমেই মাঝে মাঝে এসে থাকতো এবং আমার মা বৌদি সহ অন্যান্যদের সাথে সময় কাটাতো। এক বছরে ৫০/৬০ হাজার টাকারও বেশি খরচ হয়েছে যার আসলে সঠিক হিসাব নেই।

এখানে বিজ্ঞাপন দিন।

এক বছরের মাথায় আমার কাছে নানা রকম তথ্য আসতে থাকে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মুক্তা মৃধা সম্পর্কে। আমি মেয়ের বাড়িতে তখন আনুষ্ঠানিক বিয়ের প্রস্তাব পাঠানোর জন্য ওর মা আর বড় ভাইকে বিস্তারিত সহ জানাই ফোনে। মুক্তার মা বিভা রানী মৃধা আমাকে তাদের বাড়িতে যেতে বলে এবং বড় ভাই পার্থ মৃধা জানায় এসব বিষয়ে কেনো তাকে আগে জানাইনি। মেয়ের মা আর বড় ভাইকে বিস্তারিত জানানোর পরই মুক্তা মৃধা আমার ওপর চরম ক্ষেপে যায় এবং বলে আমাকে বিয়ে করবে না কোন সম্পর্ক রাখবে না। ফোন ফেইসবুক ইমো সব ব্লক করে নিরুদ্দেশ, হোস্টেলেও গিয়ে তাকে পাচ্ছিলাম না।
আমি মেয়ের বাড়িতে কথা বলতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম ওর বাড়িতে মাকে জানালাম। তারপরই আমাকে ছাত্রলীগ নামধারী ও পুলিশের এসআই নামধারী কিছু ছেলেরা হুমকি দেয় ফোনে আমি যেনো না যাই মুক্তা মৃধার বাড়িতে, গেলে আমাকে মেরে ফেলবে।
হুমকির বিষয়ে মেয়ের মা ও বড় ভাইকে ফোনে জানালে তারা জানায় তারা কিছু জানেনা এবং আমাকে বাড়িতে যেতে বলে। এরপর মুক্তা আমাকে ফোন করে রামকৃষ্ণ মিশনে আসতে বলে দেখা করার জন্য। আমি সেখানে গেলে তুষার মন্ডল নামে এক ছেলের সাথে আমাকে দেখা করায় সে। তুষার মন্ডল আমাকে ডিরেক্ট হুমকি দেয় আমি যাতে মুক্তার বাড়িতে না যাই আর তার সাথে কোন যোগাযোগ না করি। আমি তাকে সোজা বলে দেই আপনি মুক্তার কেউ না সুতরাং আপনার কথায় কোন কাজ হবে না। মুক্তার মা ও ভাইয়ের সাথে দেখা করতে যাবো আমি। তুষার মন্ডর আমাকে থ্রেট দেয় সে এসআই আমি বাড়ি গেলে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করে হাজতে পাঠাবে। আমি সোজা বলি যা হবে দেখা যাবে এবং চলে আসি। মেয়ের মাকে বিষয়টি জানাই এবং তিনি বলেন যে তিনি কিছু জানেন না এবং আবারও বাড়িতে যেতে বলেন দেখা করতে। আবারও ফোনে তাপস হালদার, সুব্রত নামে দুই লোক আমাকে হুমকি দেয় যাতে আমি মুক্তার বাড়িতে না যাই।

কিছুদিন পর থানা থেকে হঠাৎ ফোন আসে আমার কাছে, যে থানায় আসতে হবে আপনাকে ইমিডিয়েট আপনার নামে কেস আছে। থানায় গেলে এএসআই বিধান গনপতি আমাকে জানায় মুক্তা মৃধা আমার নামে জিডি করছে তাকে নাকি আমি ডিস্টার্ব করি হয়রানি করি মানসিক নির্যাতন করি এবং অনেক থ্রেট দেয় বিভিন্ন মামলার। এরপর সিনিয়র এএসআই কৃষান দা আমাকে আর মুক্তাকে অভিভাবকসহ পরের দিন বিকালে থানায় আসতে বলেন।

আরও বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন পরের পর্বে…….

Share.

About Author

Leave A Reply