করোনামুক্ত হয়ে অভিজ্ঞতা ও প্রতিরোধের উপায় জানালেন ইউএনও পিজুস চন্দ্র দে।

0

করোনামুক্ত হয়ে অভিজ্ঞতা ও প্রতিরোধের উপায় জানালেন ইউএনও পিজুস চন্দ্র দে।

নাগরিক ডেস্ক || করোনা মুক্ত হয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেইসবুকে জানালেন তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও রোগমুক্তির উপায় সমূহ। পাঠকদের জন্য ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি নিচে দেয়া হল।

‘ অনেকেরই জিজ্ঞাসা, করোনা আক্রান্ত হয়ে আমি কি কি চিকিৎসা নিয়েছি৷ এই কৌতুহল খুব স্বাভাবিক৷ কিন্তু জবাব দেয়াটা বেশ কঠিন; অন্তত আমার পক্ষে। আমরা জানি, করোনা এমন এক রোগ, যার সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা বিশ্বের কোথাও নেই৷ এমনকি সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণেও একে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন৷

আমার পরিবারে আমি সহ মোট ৭ (সাত) জন সদস্য প্রায় একই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ এবং তাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ দেখা গেছে৷ কারো শ্বাসকষ্ট, কারো জ্বর, কেউ কেউ বমি করেছেন, কারো আবার পেটের পীড়া। দু’জনের তীব্র মাথাধরা সহ অস্বাভাবিক গা-ব্যাথা ছিল৷ খাবারে অরুচি, ক্ষুধামন্দা, গন্ধ / ঘ্রাণ না পাওয়া এই সমস্যা প্রায় সবারই ছিল৷ ফলে আমার উপর কার্যকর চিকিৎসা, আপনার উপর সমভাবে কার্যকর না ও হতে পারে৷ তাই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত কোনভাবেই ঔষধ সেবনের পরামর্শ আমি দিতে পারি না৷ তবে হ্যা, জীবন যাপনের কিছু সাধারণ অভ্যাস আপনি গড়ে তুলতে পারেন, যা করোনা মোকাবিলায় আপনার পক্ষে খুব ভালো প্রতিরোধক হতে পারে৷

করোনা ভাইরাস থেকে সংক্রমণ রোধে আমাদের করনীয়ঃ
১. ‌কর্মক্ষেত্রে ব্যবহৃত পোশাক বাসায় ফিরে সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে দিন কিংবা পোশাকগুলো একটি ব্যাগে / ঝুড়িতে / রোদে দুই দিন পর্যন্ত রেখে দিন।
২. ‌মানিব্যাগ, বেল্ট, আংটি, ঘড়ি ইত্যাদি এই ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে ব্যবহার করা থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকুন৷
৩. ‌টাকা লেনদেনে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে৷ টাকা ধরার পরে হাত অবশ্যই স্যানিটাইজ করে করে নিতে হবে৷
৪. জরুরি প্রয়োজনে বাহিরে যেতে হলে মাস্ক ব্যবহার করুন। মাথায় পাতলা ক্যাপ ব্যাবহার করুন। বাসায় প্রবেশের পূর্বে এগুলো ঢাকনা যুক্ত বিনে ফেলে দিন।
৫. কাপড়ের ক্যাপ ও মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রত্যেকদিন ধুয়ে ব্যবহার করুন৷

জীবন যাপনের যে অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরিঃ
১. ‌ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ডি জাতীয় ঔষধ / খাবার গ্রহণ করুন৷
২. ‌প্রচুর পরিমান জল খাবেন।
‌৩. শর্করা জাতীয় খাবার কম খেয়ে লেবু, কমলা, সিজনাল দেশি ফলমূল ও পুষ্টিমানসমৃদ্ধ খাবার বেশী খাবেন।
৪. ‌হালকা গরম পানিতে লবন দিয়ে গড়গড়া করুন; দিনে ৪ বার৷
৫. ‌আদা, লবঙ্গ গোলমরিচ ও মধু দিয়ে হালকা লিকারের র’চা (Raw Tea) পান করুন; দিনে ৪/৬ বার৷
‌৬. আদা, লবঙ্গ গোলমরিচসহ পানি ফুটিয়ে মেনথল দিয়ে ভাপ নিন; দিনে ৪ বার।
৭. ‌নিয়মিত বিরতিতে মধু, লেবুর হালকা গরম পানি পান করতে পারেন। (অতিরিক্ত গরম পানি অনেক সময় গলার ক্ষতি করতে পারে। এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।)
৮. ‌প্রাণায়াম / ব্রিদিং এক্সারসাইজ করা যেতে পারে। প্রথমে ১ নাক বন্ধ করে অন্য নাক দিয়ে বড় করে শ্বাস নিয়ে অপর নাক দিয়ে ছাড়তে হবে৷ এইভাবে পজিশন পাল্টে দু’নাকেই একনাগাড়ে ১০ বার এবং নিয়মিত বিরতিতে ৪/৫ বার সময় নিয়ে ধীরে ধীরে করতে পারেন৷ এছাড়া নাক দিয়ে বড় করে শ্বাস নিয়ে ৫ সেকেন্ড ধরে রাখা, এরপর মুখ দিয়ে ছাড়া। এভাবে ৫ বার শ্বাস নিয়ে ছেড়ে দিয়ে দুটি কাশি দেয়া। এভাবে দিনে ৪/৫ বার করতে পারেন৷
৯. ‌ঘরে স্ট্রেচিং / সাধারণ ব্যায়াম করতে পারেন। অধিকক্ষণ শুয়ে / বসে না থেকে নিজের ঘর / বিছানা নিজে পরিস্কার করতে পারেন।
১০. নিয়মিত প্রার্থনা করুন; ধর্মগ্রন্থ পাঠ করুন।
১১. আইসোলেশনে থাকাকালে আনন্দে থাকার চেষ্টা করুন৷ অভ্যাস থাকলে বই পড়ুন; ভালো মুভি দেখুন। পছন্দের গান / কবিতা শুনতে পারেন। নিজের পছন্দের গাইতে / কবিতা আবৃত্তি করতে পারেন।
১২. এতদসত্ত্বেও কভিড আক্রান্ত হলে ‌সাহস রাখতে হবে; মনে রাখবেন, কোনক্রমেই মনোবল হারানো যাবে না।

বাড়তি সতর্কতা হিসাবে বাসায় যা রাখতে পারেনঃ
১. ‌প্রেসার মাপার যন্ত্র।
২. ‌পালস অক্সিমিটার৷
৩. ‌থার্মোমিটার৷
৪. ‌ইনহেলার নেয়ার জন্য একটি স্পেসার।

হতে পারে, ২০২০ সালে বেঁচে থাকাই আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ৷ তাই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন৷ আর আপনি সুস্থ থাকলেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে৷ শুভ রাত্রি! ‘

Share.

About Author

Leave A Reply