ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে পরিস্কারক বা জীবানুনাশককে শক্তিশালী করতে যাবেন না।

0

ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে পরিস্কারক বা জীবানুনাশককে শক্তিশালী করতে যাবেন না।

অনেকের মনে হতে পারে, যেকোন জীবানুনাশক যেমন ডেটল, স্যাভলন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লাস ক্লিনার, টয়লেট ক্লিনার ইত্যাদি পরিস্কারকের সাথে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে নিলে এদের শক্তি বাড়তে পারে। হয়ত আরো বেশি জীবানু ধ্বংস হবে। করোনা কালীন এই সময়ে হতে পারে এটা একেবারেই স্বাভাবিক একটি চিন্তা। কিন্তু না! এটা কখনোই কেই ভুলেও করবেন না। করার চেষ্টাও করবেন না। এটা হতে পারে মৃত্যুও ডেকে নিয়ে আসতে পারে।

ব্লিচিং পাউডার যার রাসায়নিক সংকেত Ca(OCl)Cl.এবং রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইড। এটি সবচেয়ে পরিচিত এবং সহজলভ্য জীবানুনাশক।

ব্লিচিং পাউডারের সাথে যে কোন পরিষ্কারক বা জীবানুনাশক মেশালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস উৎপন্ন হয়। আর ক্লোরিন গ্যাস যা মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই চোখ, ন্যাজাল প্যাসাজ (নাক) এবং ফুসফুসকে মারত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

যদি কোন সুস্থ্য মানুষ মাত্র ৩০ সেকেন্ড এই গ্যাস নিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করেন তবে তার ফুসফুস স্বাভাবিক হতে ৭-৮ ঘন্টা সময় লাগবে। আর যদি কারো ফুসফুস দূর্বল, ফুসফুসের রোগ বা করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে এই ৭-৮ ঘন্টার মধ্যে তার ফুসফুস অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। ঘটে যেতে পারে দূর্ঘটনা। কারণ এই বিষাক্ত গ্যাস ফুসফুসে ঢোকার সাথে ফুসফুস মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং অক্সিজেন নেয়া বন্ধ করে দেবে। এতে মৃত্যুর আশংকা বেড়ে যেতে পারে।

একইভাবে ব্লিচিং পাউডারের সাথে ভিনেগার (সিরকা) মেশাতে যাবেন না।
কোন রাসায়নিক দ্রব্যাদিকেই ব্লিচিং/ ব্লিচ এর সাথে নেওয়া যাবেনা। কেননা প্রতিটি রাসায়নিক পদার্থের রয়েছে আলাদা আলাদা রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য যা অন্য বৈশিষ্ট্যর রাসায়নিক পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে নতুন রাসায়নিক ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ তৈরি করে। ফলে এই অজ্ঞতা থেকেই ঘটে যেতে পারে বড় রকমের দূর্ঘটনা।

স্বল্প পরিসরে কয়েকটি বিক্রিয়া উল্লেখ করছিঃ

১। ব্লিচিং পাউডার + সেনিটাইজার (Rubbing alcohol) = বিষাক্ত ক্লোরোফরম।

২। ব্লিচিং পাউডার + ভিনেগার = বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস।

৩। ব্লিচিং পাউডার + গ্লাস ক্লিনার (Ammonia) = ক্লোরো-অ্যামিন ( যার জন্য শ্বাসকষ্ট ও বুকব্যথা হতে পারে)।

৪। হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড + ভিনেগার = পার-অক্সি-এসিটিক এসিড (ক্ষয়কারক)।

৫। ব্লিচিং পাউডার + হারপিক = বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস।

তাই আসুন নিজে সতর্ক থাকি। যথাসম্ভব অন্যকে সতর্ক করার চেষ্টা করি।

লেখক/ আমিনুর রহমান শামীম
প্রভাষক, রসায়ন

Share.

About Author

Leave A Reply