আরেক প্রতারক সাংবাদিকের সন্ধান : মৃত স্ত্রীর নামে চাল তুলছেন ছয় মাস

0

আরেক প্রতারক সাংবাদিকের সন্ধান : মৃত স্ত্রীর নামে চাল তুলছেন ছয় মাস

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ★★ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নে মৃত স্ত্রীর নাম ব্যবহার করে অর্ধ বছর ধরে অতিদারিদ্রের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্বচ্ছল এক যুবকের বিরুদ্ধে। এমনকি প্রতারণা করে নিজ ওয়ার্ড বাদ দিয়ে পার্শ্ববর্তী আরেক ওয়ার্ড থেকে মাসের পর মাস ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে চাল উত্তোলন করে চলছেন। এ ঘটনায় কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরণের হুমকি প্রদান করেন। অভিযোগ উঠেছে, এক সময়ের ট্রাক ড্রাইভার সোহাগ মাঝি ঢাকার একটি আন্ডারগ্রাউন্ডের পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় এমন অসংখ্য অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। তার হয়রানিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে ওই এলাকার মানুষ। সোহাগ মাঝির বিরুদ্ধে রয়েছে নিরিহ মানুষ জিম্মি করে চাঁদাবাজী করারও অভিযোগ। জানা গেছে, এই সোহাগ মাঝি সরকারি ব্যাংকে ভূয়া দলিল দাখিল করে ঋণ নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার সন্ধান চালালেও টাকা উত্তোলন করতে পারছে না।
জানা গেছে, নলছিটি উপজেলার ৯ নং দপদপিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সোহরাফ মাঝির ছেলে সোহাগ মাঝি কিশোর বয়স থেকে বরিশালের আলম বুক স্টলে পত্রিকা বিক্রি করার চাকরী করতেন। আলম বুক স্টলের স্বত্ত¡াধিকারী আলম সিকদারের সাথে প্রতারণা করার দায়ে তার চাকরী চলে যায়। তারপর তিনি ঢাকায় পারি জমান। সেখানে ট্রাক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সেখান থেকে ২০১৮ সালে গ্রামে ফেরেন। দুই সন্তানের জনক সোহাগ মাঝি এলাকায় জড়িয়ে পরেন পরকীয়ায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরকীয়ায় জড়িয়ে পরার পরপরই সোহাগ তার স্ত্রীকে মারধর করতো। এ নিয়ে কয়েকবার শালিসও হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ৫ মার্চ রাতে হঠাৎ করেই মৃত্যুবরণ করেন সোহাগের স্ত্রী মনি আক্তার। রহস্যজনক ওই মৃত্যু নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে নির্যাতনের পর সোহাগ মাঝির হাতেই মৃত্যু হয়েছে মনির। যদি সোহাগের হাতে মৃত্যু হয় তাহলে পরকীয়া প্রেমের কারনেই হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মনির মৃত্যুর পর তরিঘরি করে লাশ দাফন করে ফেলেন সোহাগ।
জানা গেছে, সোহাগ মাঝি ৬ নং ওর্য়াডের ভোটার হলেও তার স্ত্রীর নামে অতিদারিদ্রের কর্মসূচির প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দ (ভিজিডি) চাল উত্তোলন করতো। বিধান রয়েছে, এই সহায়তা কেবলমাত্র অতিদারিদ্রের জন্য বরাদ্দ এবং নারীর নামে কার্ড হয়ে থাকে। তাছাড়া বরাদ্দের চাল উত্তোলন করতে হলে কার্ডধারী নারী সদস্যকে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হতে হয়। কিন্তু সোহাগ মাঝি তার স্ত্রীর নামে নিজ ওয়ার্ডে ভিজিডির কার্ড না করিয়ে ৭ নং ওর্য়াডে জালিয়াতির মাধ্যমে কার্ড করান। জানা গেছে, সংরক্ষিত (৭, ৮ ও ৯) নারী ইউপি সদস্য নাজনীন আক্তার নিপার বাসায় বাজার করে দেয়ার সূত্র ধরে ভিজিডির কার্ডটি করান সোহাগ মাঝি।
এদিকে সোহাগ মাঝির স্ত্রী মনি আক্তার মারা যাওয়ার পরও ধারাবাহিকভাবে ভিজিডির চাল উত্তোলন করে যাচ্ছেন তিনি। দীর্ঘ ছয়মাস ধরে এই ভাতা ভোগ করে আসছেন। এমনকি নিজেও গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দের চাল ছাড়িয়ে আনেন না; ওই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দ্বারা বাড়িয়ে দিয়ে আসতে বলেন। অন্যথায় সেই গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার মাহামুদ হোসেন জমাদ্দার বলেন, এটা আমার দেখার বিষয় না
চেয়ারম্যান ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাজ। এই বলে দায়সারা বক্তব্য প্রদান করে।
ওদিকে অগ্রণী ব্যাংক রূপাতলী শাখায় ভূয়া দলিল জমা দিয়ে কৃষি ঋণ গ্রহণ করেছেন এই প্রতারক সোহাগ মাঝি। ব্যাংক ম্যানেজার আনোয়ারুল হাকিম জানান, আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে এখান থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে। তাকে খুঁজে সময় বেধে দিয়েছি। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করে তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহাগ মাঝি বলেন, নিউজ প্রকাশ না করার জন্য বিনীত অনুরোধ করে।

Share.

About Author

Leave A Reply